‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে বছরে শতকোটি টাকার মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল পাটের জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’ ব্যাপকভাবে চাষ করা গেলে বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার পাটবীজ আমদানির প্রয়োজন কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে উন্নতমানের দেশীয় বীজ উৎপাদন, বেশি ফলন এবং কৃষকের লাভ বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখবে এই জাতটি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল পাটের জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’ জনপ্রিয় করতে বুধবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি গ্রামে একটি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিনার বিজ্ঞানী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রায় ১০০ জন কৃষক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ‘বিনা তোষাপাট-১’-এর উদ্ভাবক এবং বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান কৃষি বিজ্ঞানী ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, এই জাতের পাটের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভারত থেকে পাটবীজ আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে শুধু বীজ আমদানি খাতেই বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষকেরা নিজেরাই উন্নতমানের দেশীয় বীজ উৎপাদন করতে পারবেন।
মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন বিনা উপকেন্দ্র মাগুরার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সুসান চৌহান। প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিনার কৃষিতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. হাবিবুর রহমান, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ নুরুন্নবী মজুমদার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সৈকত হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আক্কাস হোসেনসহ স্থানীয় কৃষকেরা।
পাটচাষি খবির হোসেন জানান, প্রচলিত ভারতীয় জাতের পাট চাষ করে তিনি প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ১৫ মণ ফলন পেতেন। তবে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে গাছের বৃদ্ধি ও আঁশের মান অনেক ভালো হয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় অন্তত ২০ মণ পাট উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিবছর পাট চাষের মৌসুমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পাটবীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আমদানি করা বীজে ভেজাল বা কম অঙ্কুরোদগমের সমস্যা দেখা দেয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই জাতের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষকেরা সহজেই মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ‘বিনা তোষাপাট-১’ প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বেশি লম্বা। ডালপালা কম হওয়ায় আঁশের উৎপাদন বেশি হয় এবং বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি গড় আঁশের ফলন প্রায় ৪ দশমিক ১৭ টন, যা প্রচলিত অনেক জাতের তুলনায় বেশি।
এ ছাড়া বীজ বপনের প্রায় ১১৮ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করার সক্ষমতার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধেও জাতটি কার্যকর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। জীবনকাল তুলনামূলক কম হওয়ায় সার ও সেচের খরচও কম লাগে, ফলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেয়ে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে