কুষ্টিয়ায় ৫ বছর পর মানসিক ভারসাম্যহীন নেপালী যুবকের পরিচয় শনাক্ত
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিচয়হীনভাবে ঘুরে বেড়ানো এক নেপালী যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের বারা জেলার বাসিন্দা রিয়ান আনসারী। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের আশ্রয়ে ছিলেন।
মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর ভাষায়, শুরুতে যুবকের ভাষা বুঝতে সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে তিনি কিছুটা বাংলা শিখেছেন এবং পরিবারের সদস্যের মতোই আচরণ করেন।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ওই যুবক পরিবারের একটি ইমো নম্বর দেন। পরে যোগাযোগ করে জানা যায় তাঁর নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খোঁজ করছিলেন। বর্তমানে রিয়ান প্রতিদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলছেন, যা তাঁর মানসিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহ করছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দীর্ঘদিন পর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় পলাশ আহমেদের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
১১৫ বার পড়া হয়েছে