অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড দুদকের তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৬:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, অতীতের সব সরকারের কর্মকাণ্ডের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমও জনস্বার্থে তদন্ত হওয়া উচিত।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে বিশ্বাসী। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কথিত দুর্নীতির অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়মের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তাঁর ভাষায়, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা ছিল। সে সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড জনস্বার্থে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তিনি নিজে কোনো অভিযোগ করছেন না উল্লেখ করে বলেন, প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন। তাঁর মতে, কোনো সরকারই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জবাবদিহির অভাবে দেশে ‘লুটেরা অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বিস্তার লাভ করেছে। তাঁর দাবি, এ সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। একই সময়ে ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক পরিচালনা এবং বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ সমঝোতার ভিত্তিতে ওই সনদে স্বাক্ষর করেছে। সব বিষয়ে মতৈক্য না থাকলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ ও আসল মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি "নিউ ইকোনমিক অর্ডারের বাজেট" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। তাঁর দাবি, বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
বাজেটের লক্ষ্য হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয় তুলে ধরে তিনি সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ দেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, বর্তমানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আগের তুলনায় বেশি কার্যকর এবং থানায় মামলা গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রয়োজন হয় না।
১২৩ বার পড়া হয়েছে