মুন্সীগঞ্জে অপহৃত যুবক উদ্ধার, আন্তঃথানা অভিযানে গ্রেপ্তার ৩
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৬:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও দ্রুত পদক্ষেপের ভিত্তিতে ঢাকার গুলশান থানার সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে অপহৃত এক যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অপহৃত যুবকের পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন সকালে এক নারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ২২ বছর বয়সী ছেলে ইনছান বেপারী আগের রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ইমো কলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অপহৃত যুবকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলশান থানাকে সরবরাহ করা হলে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২৮ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর এলাকার কাজী ভিলায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া যুবকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সাবেক স্ত্রী কৌশলে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় তাঁকে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তাঁর পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলাকালেই পুলিশের অভিযানে তিনি উদ্ধার হন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সোহেল (২৪), বেলায়েত হোসেন (২৫) ও রোমান ইসলাম (২৩)। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর। আন্তঃথানা সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে