সর্বশেষ

সারাদেশ

বোয়ালমারীতে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু, ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্টের অভিযোগ

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৬:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সাপের কামড়ে মো. রাফসান শেখ (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের অমৃত নগর চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন শেখের ছেলে মো. রাফসান শেখ শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৯টার দিকে ঘরের পাশের বাথরুম থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাপে কামড়ানোর পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঘোষপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ি এলাকার এক ওঝার কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ সময় এভাবে কাটানোর পর রাত প্রায় ৪টার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দেওয়া হয়। তবে রোববার ভোর পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এনায়েত হোসেন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগেও রাফসানকে একই এলাকার পুকুরপাড়ে সাপে কামড়েছিল। তখনও একই ওঝার ঝাড়ফুঁকের পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হয়। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা এবারও প্রথমে একই পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কে এম মাহমুদ রহমান বলেন, রাত ৪টার দিকে রাফসানকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগে সম্মতি দেননি। পরে তাঁদের সম্মতিতেই রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

চিকিৎসকদের মতে, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা রোগীর জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

১১৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন