সংগ্রামী শিক্ষকের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সাড়া: বিদ্যালয় জাতীয়করণের নির্দেশ
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৫:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিগগিরই জাতীয়করণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিন্দু এলাকার বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন। সংসদে পাঠানো সেই নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে অর্থসংকট দেখা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক নিজেই ছুটির দিনগুলোতে থানচি–তিন্দু–রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে যাত্রী ও পর্যটক পরিবহন করেন। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করেন।
আতিকুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের এই উদ্যোগ শিক্ষা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রধান শিক্ষকের এই আত্মত্যাগ ও বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে