সর্বশেষ

সারাদেশ

ফরিদপুরে পেঁয়াজচাষিদের হতাশা, উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৬:১৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে যেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। এতে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ বছর পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও বাজারমূল্য কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে ঋণ পরিশোধ, উৎপাদন খরচ মেটানো এবং আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কৃষক।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পেঁয়াজের বাজারদর না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজের আবাদ হয়। জেলার হাজারো কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

সালথা উপজেলার গোট্টি এলাকার কৃষক বিল্লাল মাতুব্বর বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়েছে। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের ব্যয় বাড়লেও বর্তমান বাজারদরে সেই খরচের অর্ধেকও উঠছে না। তার ভাষায়, এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দিতে হবে।

সালথা সদর বাজারের আড়তদার সুজন মাতুব্বর বলেন, কম দামে পেঁয়াজ কিনলেও অন্য বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

নগরকান্দার কৃষক বক্কার মোল্যা বলেন, পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়, বর্তমান বাজারদর তার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরের পর বছর লোকসান হলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন।

একই উপজেলার কৃষক শফিক শেখ জানান, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে বাজারদর বাড়ার অপেক্ষা করা যেত। আগামী মৌসুমে তিনি পেঁয়াজের বদলে অন্য ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা করছেন।

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক নুরু মোল্লা বলেন, বর্তমান দামে শ্রমিকের মজুরিও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন তারা।

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান বলেন, এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয়, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন। অন্যথায় আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের দায়িত্ব নয়। তবে কৃষকদের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ২ হাজার ৫০০টি এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন