গাইবান্ধায় ‘চাঁদা না দেওয়ায়’ রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেরামারা ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত মিনি জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চাঁদা না দেওয়ার জেরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ক্ষতিপূরণ, পুনরায় ব্যবসা চালুর সুযোগ, নিরাপত্তা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে রোববার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মিনি জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক মো. মানিক মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গা লিজ নিয়ে তিনি রেস্টুরেন্টটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পরিচালনার দায়িত্ব আমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানিক মিয়ার দাবি, রেস্টুরেন্ট চালুর পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। পরে একদল ব্যক্তি রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, যদি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেটির বিচার রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ধাপে ধাপে রেস্টুরেন্টটি গড়ে তুলেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী প্রশাসনের কাছে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্টুরেন্টটির মালিক মানিক মিয়া, পরিচালক আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ওই রেস্টুরেন্টে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। ওই অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে