সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে অস্থিরতা, বাড়তি দামে চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কোরবানির ঈদের পর কুষ্টিয়ার চালের বাজারে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা দাম বাড়ার পর বর্তমানে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ মানুষের মধ্যে। ধান, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ী ও মিলমালিকেরা। তবে আগামী কয়েক মাস বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোরবানির ঈদের পর দেশের অন্যতম বড় চালের বাজার কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে সেই বাড়তি দামেই বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে চালের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের ছুটি শেষে বাজার খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই দাম বেড়ে যায়। গত দুই সপ্তাহে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের বাড়তি দাম বহাল রয়েছে।

পৌর বাজারের মেসার্স মা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ মনজু জানান, বর্তমানে ২৫ কেজির মিনিকেট ব্র্যান্ডের চাল ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং নন-ব্র্যান্ডের চাল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজললতা ব্র্যান্ডের চালের বস্তা ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং নন-ব্র্যান্ডের চাল ১ হাজার ৫৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া আটাশ চালের বস্তা ১ হাজার ৩০০ টাকা, মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা এবং বাসমতি ব্র্যান্ডের চাল কেজিপ্রতি ৮৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পৌর বাজারের বাঁধন স্টোরের মালিক মো. বাবুল বলেন, কোরবানির ঈদের পর সব ধরনের চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে আর কোনো নতুন মূল্যবৃদ্ধি হয়নি।

চালের দাম বাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরিফুল ইসলাম বলেন, চালসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বেতন বাড়েনি। পরিবারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক তুহিন শেখ। তিনি বলেন, শহরে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে গেছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সামির এগ্রোর মালিক ও দেশ এগ্রোর পরিচালক সামির খালেক বলেন, ঈদের আগে তুলনায় বর্তমানে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেশি। ধানের দাম মণপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব চালের বাজারে পড়েছে।

তিনি জানান, বিদ্যুতের বিল প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে মিলমালিকদের বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে আগামী দুই থেকে তিন মাসে চালের দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাজার স্থিতিশীল থাকলে নিয়মিত ব্যবসায়ীরা যেমন সুবিধা পান, তেমনি ভোক্তারাও স্বস্তিতে থাকেন।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, ধানের আর্দ্রতার পার্থক্য এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাম্প্রতিক সময়ে চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। কাঁচা ধান শুকানোর পর ওজন কমে যাওয়ায় মণপ্রতি ধানের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা চালের বাজারেও প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের পরবর্তী দুই মাস সাধারণত ধানের দাম কিছুটা বেশি থাকে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালকলের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার স্বাভাবিক রয়েছে এবং সামনে চালের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা কম।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন