সর্বশেষ

সারাদেশ

তাপপ্রবাহ রুখতে সাতক্ষীরায় দেশের প্রথম ‘অভিযোজন দুর্গ’ উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১:২৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় মানুষকে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচাতে সাতক্ষীরায় দেশের প্রথম ‘অভিযোজন দুর্গ’ চালু করা হয়েছে। ব্র্যাক ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে তীব্র গরমেও স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয় দেবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাবউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ব্যতিক্রমী দুর্গের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. বাবলুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান।

এই প্রকল্পটি মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে তীব্র তাপদাহের সময় জীবন রক্ষাকারী নিরাপদ আশ্রয়স্থলে রূপান্তর করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ এবং শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপের সাহায্যে পরিচালিত হবে এই কেন্দ্রটি। এর ফলে তীব্র গরমের সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও আশ্রয়কেন্দ্রটি থাকবে সম্পূর্ণ সচল ও শীতল। এছাড়া এখানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ও উন্নত শৌচাগারের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ব্র্যাক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ উদ্যোগ ‘জামিল অবজারভেটরি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক’ (JO-CREWSnet)-এর জলবায়ু পূর্বাভাস অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে। অতীতে যে তাপপ্রবাহ ১০০ বছরে একবার ঘটত, তা এখন প্রতি ৪ থেকে ৮ বছর পর পর ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে এই কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে। তাপপ্রবাহের মৌসুম বাদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যখন সচল থাকবে না, তখন উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এরই মধ্যে যশোর জেলার কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় অভিযোজন দুর্গ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে এমন ৫ হাজারটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন