কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ রুমী সেতুর টোল নিয়ে বিতর্ক, বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর লাহিনীপাড়া ও কয়া এলাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত সৈয়দ মাছ-উদ রুমী সেতুতে টোল আদায় পুনরায় চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। টোল আদায়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক স্থানীয় বিএনপির এক নেতা হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সৈয়দ মাছ-উদ রুমী সেতুর টোল আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের একাংশ টোল আদায়ের বিরোধিতা করে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনমতের প্রেক্ষাপটে সেতুটিতে টোল আদায় দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। এ সময় কুষ্টিয়ার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ একাধিকবার টেন্ডার আহ্বান করলেও কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। পরে গত ১০ মার্চ আহ্বান করা টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজটি পায় থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক কুষ্টিয়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব।
সওজ সূত্রে জানা যায়, তিন বছরের জন্য ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার চুক্তিতে গত ১৮ মে থেকে সেতুটিতে পুনরায় টোল আদায় শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। টোল আদায় বন্ধের দাবিতে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন এবং টোলপ্লাজার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, ২০০৪ সালে নির্মিত এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বহু আগেই টোল আদায়ের মাধ্যমে উঠে এসেছে। তাই এখন টোল আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় টোল ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা উচিত।
এদিকে পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরাও টোলের হার নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। ট্রাকচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আগে যেখানে একটি ট্রাক থেকে ১৫০ টাকা টোল নেওয়া হতো, এখন সেখানে ১৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া ট্রাক মালিক গ্রুপের নির্বাহী সদস্য এবং জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, জনগণের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব। তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন রাজস্ব হারাচ্ছিল। সব ধরনের সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই তিনি টেন্ডারে অংশ নিয়েছেন এবং বৈধভাবে কাজটি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে সেতুতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুসারেই সেতুর টোল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ নেই।
টোল আদায় নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে স্থানীয় জনগণের দাবি, পরিবহন মালিকদের উদ্বেগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে