২০২৬-২৭ বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়, দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচাররোধে গুরুত্বারোপ
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ৮:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রস্তাব থাকলেও রাজস্ব আহরণ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ প্রায় ৬০টি মৌলিক পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বাজেটে স্থান পেয়েছে।
তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও নির্ভরশীল হতে হতে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নে কর ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি ও অপচয় রোধ এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কর আদায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারা বলেন, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কার্যকর প্রচারণা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতি ও অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
অর্থ পাচার রোধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে অতীতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি, রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর।
১২৭ বার পড়া হয়েছে