সর্বশেষ

সারাদেশ

অনুমোদনবিহীন বহুতল নির্মাণে শাহজালাল উপশহরে বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের শাহজালাল উপশহরের এফ-ব্লকের ১ নম্বর রোডের ২০ নম্বর প্লটে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও প্রভাবশালী মহলের প্রভাব নিয়ে।

সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমোদন ছাড়াই সেখানে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ চলছিল। বিষয়টি জানার পর সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী নেজামুল হক মজুমদারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়া বড় কাঠামো নির্মাণ দেখতে পেয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কঠোর নির্দেশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—আইন প্রয়োগের চেয়ে প্রভাবশালী মহলের প্রভাব কি বেশি শক্তিশালী?

অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নকশার অনুমোদনের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হলেও এখানে ২০১৪ সালের আল-মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত পুরোনো নথি ব্যবহার করে ২০২৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ইসমাইল আহমেদ দাবি করেন, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র দেখানোর পরই তারা নকশা অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, মেয়াদোত্তীর্ণ নথির সত্যতা যাচাই না করেই কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হলো?

প্রথমে কঠোর অবস্থান নিলেও পরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

কিন্তু সাধারণ নিয়মে যেখানে অনুমোদন পেতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে, সেখানে মাত্র একদিনে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ঠিকাদারের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসী মালিক লন্ডনে অবস্থান করায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদার নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন এবং জাল নথি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গ করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, নকশা পরিবর্তন, সয়েল টেস্ট ছাড়াই নির্মাণ এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনাকে ‘ওপেন সিক্রেট অনিয়ম’ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্চতর তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সিন্ডিকেটের প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাগুলোও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়বে।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন