সর্বশেষ

জাতীয়

কৃষি গবেষণায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন আলমগীর কবীরের

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের পিএইচডি প্রথম সেমিস্টারের ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ৪-এর মধ্যে ৩.৮৭ জিপিএ অর্জন করেছেন।

এমন এক সময়ে এই ফলাফল এসেছে, যখন দেশের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সমাজে নেতিবাচক ধারণাই বেশি প্রচলিত।

“রাজনীতি করলে পড়াশোনা হয় না”—বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণাকে নীরবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন আলমগীর কবীর।

যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণের পথচলা সহজ ছিল না। মফস্বলের সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সামাজিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষকের কষ্ট, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অনিশ্চিত ফসল এবং খাদ্য নিরাপত্তার সংকট প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার পথে এগিয়ে নেয়।

বর্তমানে তিনি প্রফেসর ড. সফিউল্ল্যাহ মজুমদার কিরণের তত্ত্বাবধানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে কেন্দ্র করে “স্মার্ট ক্লাইমেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি” বিষয়ে গবেষণা করছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, লবণাক্ততা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি উৎপাদনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্ভাবনা খুঁজে বের করা।

আলমগীর কবীর মনে করেন, বাংলাদেশের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও কৃষি অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি শুধু রাজনীতির মাঠেই নয়, কৃষির মাঠেও অবদান রাখতে চান।

তার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষকদের জন্য এমন প্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা কম পানি ও কম খরচে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উৎপাদন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জলবায়ু বিশ্লেষণকে কৃষির সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও তিনি নিয়ে কাজ করছেন।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে প্রায়ই নানা তির্যক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—“রাজনীতি করে আবার গবেষণা?” রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কখনো কখনো শিক্ষাজীবনেও অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে অনেক সময় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা জানান, দিনের বড় একটি সময় তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। কখনো শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হয়, আবার কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচি সামলাতে হয়। তবে গভীর রাতেই শুরু হয় তার আরেকটি পরিচয়—গবেষক আলমগীরের জীবন।

ল্যাব, ক্লাস, ফিল্ডওয়ার্ক, গবেষণা প্রবন্ধ এবং আন্তর্জাতিক রেফারেন্স স্টাডি—সবকিছু সামলাতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক আনন্দ বিসর্জন দিতে হয়েছে তাকে। কমেছে ঘুম ও অবসর, কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি।

আলমগীর কবীর বিশ্বাস করেন, ছাত্ররাজনীতি শুধুই ক্ষমতার লড়াই নয়; এটি নেতৃত্ব তৈরির জায়গা, সমাজকে বোঝার জায়গা এবং দেশের জন্য কাজ করার প্রস্তুতির ক্ষেত্র। তার মতে, শিক্ষিত, গবেষণামুখী এবং নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগোতে পারবে না।

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং অশিক্ষিত নেতৃত্বের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ছাত্রনেতাদের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তবে আলমগীর কবীরের মতো কিছু তরুণ সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন উদাহরণ তৈরি করছেন, যেখানে রাজনীতি ও একাডেমিক উৎকর্ষ একসঙ্গে চলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যখন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ, তখন “স্মার্ট ক্লাইমেট এগ্রিকালচার” নিয়ে গবেষণা শুধু একাডেমিক বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বিএম আলমগীর কবীরের এই অর্জন তাই শুধু একজন ছাত্রনেতার ভালো ফলাফলের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। তার সাফল্য প্রমাণ করে, মেধা, পরিশ্রম এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে রাজনীতি কখনো শিক্ষার বাধা নয়; বরং ইতিবাচক নেতৃত্ব গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

মনিরামপুরের সেই গ্রামের ছেলেটি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে দাঁড়িয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন। তার এই পথচলা হয়তো নতুন প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে—ছাত্ররাজনীতি মানেই অন্ধ সংঘাত নয়; এটি জ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমেরও উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন