কাপাসিয়ার ৫ খুন : পদ্মা নদী থেকে ফোরকানের মরদেহ উদ্ধারের গুজব
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে- এমন তথ্য প্রমানিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
তবে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জনৈক ব্যক্তির আত্মহত্যার চেষ্টার সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। কিন্তু তিনিই ফোরকান কি না- এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ আরো জানায়, গত ১১ তারিখ সকালে পদ্মা নদীতে একজন ব্যক্তির নদীতে ঝাঁপ দেয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। তবে সেটি ফোরকান মিয়া কিনা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পরে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি সেতুর রেলিংয়ের ওপর মোবাইলসহ কিছু জিনিস রেখে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের হেল্পার মোবাইলটি তুলে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইলটি মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে।
এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন- এমন গুজবেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন কন্যা মিম (১৪), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ফোরকান পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। প্রায় এক বছর আগে তিনি রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগেই দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
১৮৫ বার পড়া হয়েছে