গোয়ালন্দে প্রেমিক ও তার বন্ধুর ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী, আটক ১
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৯ মে) রাতে একটি নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী নাহিদুল ইসলাম নাফিস (২০) নামে এক অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে রোববার (১০ মে) সকালে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক রায়হান পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, আটক নাহিদুল ইসলাম নাফিস গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকির পাড়ার এলেম মন্ডলের ছেলে। সে ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিলডাঙ্গা গ্রামে নানাবাড়িতে থেকে কলেজে পড়াশোনা করত। অন্যদিকে, পলাতক প্রেমিক রায়হান শেখ (২০) ছোটভাকলা ইউপির শহীদের দোকান এলাকার কুদ্দুস শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউপির চর আন্ধারমানিক এলাকার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীর সাথে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে রায়হানের পরিচয় হয়। গত দুই মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে প্রেমিক রায়হান ও তার বন্ধু নাফিস তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর কয়েক কিলোমিটার দূরে শহীদের দোকানের পেছনে একটি নির্জন পুকুরচালায় (পুকুরপাড়) নিয়ে যায়। সেখানে দুই বন্ধু মিলে মদ ও নেশাজাতীয় ওষুধ পান করে। এরপর তাকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রাত ১২টার দিকে কিশোরীকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে আসলে সে চিৎকার শুরু করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে নাফিসকে মোটরসাইকেলসহ আটক করলেও রায়হান পালিয়ে যায়। কিশোরী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছে।
এদিকে, আটক হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন নাফিসকে এলাকার মাতুব্বর ফরিদ মুন্সীর বাড়িতে আটকে রাখে এবং সকালে পুলিশে খবর দেয়। তবে অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলাম নাফিসের দাবি, বন্ধু রায়হান তার প্রেমিকাকে মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ডাক দিলে সেও ধর্ষণের চেষ্টা করে, তবে ধর্ষণ করেনি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশিদুল ইসলাম বলেন, "কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ এক তরুণকে আটক করে রোববার সকালে খবর দিলে আমরা তাকে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রোববার দুপুরে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুলকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার এবং আটককৃত তরুণকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।"
১২৩ বার পড়া হয়েছে