কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াতে গিয়ে বিপাকে ইউপি সদস্যসহ ৫ জন
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদকসহ গ্রেপ্তার এক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন। পরে তাঁদের থানায় হেফাজতে রাখা হয়।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা থানার হেফাজতেই ছিলেন। এদিকে গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন স্থানীয় বিএনপির নেতা এনামুল হক। তিনি সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। বাকি চারজন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা। তাঁরা হলেন উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, একই এলাকার সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম।
মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি রবিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, “আটক চারজন সরাসরি জামায়াতের কোনো কমিটিতে নেই। তবে তারা আমাদের সমর্থক এবং গত নির্বাচনে আমাদের ভোট দিয়েছেন। প্রচার-প্রচারণাতেও ছিলেন।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নওদা আজমপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রবিউল ইসলামকে ইয়াবাসহ নিজ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে মাদকসহ থানায় নেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য এনামুল হকসহ জামায়াত নেতা সাইদুল ইসলাম, সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম থানায় উপস্থিত হন। তাঁরা রবিউল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসির কাছে তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওসির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তার এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়ানোর জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য এনামুল হকসহ চার জামায়াত নেতা চাপ ও তদবির দিতে আসেন। একপর্যায়ে তারা বারবার চাপ সৃষ্টি করলে তাঁদেরও থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সারা রাত তাঁদের থানায় রাখা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীকে সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। থানায় হেফাজতে থাকা পাঁচজনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪২ বার পড়া হয়েছে