সিলেটে ‘সবুজ সিলেট’ অফিস ও ভিজ্যুয়াল স্টুডিওতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৪:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ী এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় দৈনিক ‘সবুজ সিলেট’ পত্রিকা অফিস এবং সবুজ সিলেট ভিজ্যুয়াল স্টুডিওতে দুই দফায় সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল নেতা জামিনুল ইসলাম জামির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকালে স্টুডিওতে থাকা বাউল শিল্পীদের আটকে রেখে মারধর এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও নথিপত্র লুট করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, হামলার ঘটনা ঘটে ৩০ এপ্রিল ও ১ মে দুই ধাপে। প্রথম ঘটনায় ৩০ এপ্রিল গান রেকর্ডিং চলাকালীন সময়ে দুই যুবক—মাহিম ও জিসান—স্টুডিওতে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
এরপর ১ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জামিনুল ইসলাম জামি, রুবেল ও নাজিরসহ ১০–১২ জনের একটি দল আবারও সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় তারা স্টুডিওতে থাকা বাউল শিল্পী ও কলাকুশলীদের জিম্মি করে তালা লাগিয়ে দেয় এবং মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলাকারীরা কুশিয়ারা মিডিয়া লিমিটেডের সহকারী পরিচালক সাদিকুর রহমান সেলিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দৈনিক সবুজ সিলেট কার্যালয়ে ঢুকে সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের খুঁজে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পুরো ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা শিল্পীদের উদ্ধার করে। পরে কুশিয়ারা মিডিয়া লিমিটেডের সহকারী পরিচালক সাদিকুর রহমান সেলিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এ ঘটনায় সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া বাউল শিল্পীরা জানান, তারা নিরীহভাবে গান করার সময় এমন হামলার শিকার হয়েছেন, যা তাদের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জামিনুল ইসলাম জামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বুলুর ছেলে এবং বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য দেননি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জিডি হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে