দুলালকান্দি মসজিদ দখলের অভিযোগ, তালা খুলে দেওয়ার দাবি মুসল্লীদের
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ১:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার দুলালকান্দি এলাকার “খাসা বাপের বাড়ি সুন্নী জামে মসজিদ” জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় মুসল্লীরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় সাত বছর ধরে মসজিদে ইমামতি করে আসা হাফিজ মুহাম্মদ মুজাহিদকে গত ৩ রমজান থেকে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মসজিদে প্রবেশ ও ইমামতি করতে বাধা দিচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আফজল, আব্দুল মালেক ও খোকন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি লালমিয়া নামের আরেক ব্যক্তির প্ররোচনার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
মুসল্লীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মসজিদে তালা লাগিয়ে নিয়মিত নামাজ ও জুমার জামাত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে সীমিতভাবে নামাজ আদায় করে মসজিদ বন্ধ রাখে এবং অন্যরা নামাজ পড়তে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে বক্তারা বলেন, মসজিদের জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমিটি মসজিদের জন্য প্রদান করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা ওই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা আইনবিরোধী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে মুসল্লীরা বলেন, মসজিদ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সকল মুসলমানের ইবাদতের স্থান। তাই সেখানে নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া গুরুতর অন্যায় এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের দাবিগুলো হলো—
অবিলম্বে মসজিদের তালা খুলে সবার জন্য নামাজ আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা
ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ মুজাহিদকে নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া
দখল ও বাধা প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও গ্রেফতার
মসজিদের জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা ও মব সংস্কৃতি প্রতিরোধ।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে