সর্বশেষ

পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ ওসি, নিহত-আহতের ঘটনা

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৭:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় একাধিক প্রাণহানি ও আহতের খবর মিলছে।

উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন কর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অভিযোগ, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি বাড়ির ভিতর থেকে গুলি চালানো হয়। সেই গুলিতে ওসির পায়ে আঘাত লাগে। একই ঘটনায় এক কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় পুলিশের অনুমতি নিয়ে মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিজয় উদ্‌যাপনের অংশ। যদিও এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও বুলডোজার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তাকে রাস্তায় একা পেয়ে দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে ফেলে রেখে যায়।

অন্যদিকে, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয় উদ্‌যাপনের পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মুর্শিদাবাদের ডোমকলে শফিকুল ইসলাম নামে এক সিপিএম কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে থাকলেও তারা তা অস্বীকার করেছে।

জিয়াগঞ্জে শ্রীপত সিংহ কলেজের সামনে থাকা লেনিনের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একদল যুবক লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে এবং সেখানে অন্য মূর্তি বসানোর স্লোগান দেয়। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী বীণা মণ্ডলের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির সামনে গালিগালাজ, ইট ছোড়া এবং ভাঙচুর চালানো হয়। বীণা মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, বিজেপি এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও বিজেপির তরফে তা অস্বীকার করা হয়েছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল কর্মীদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চলছে। তার দাবি, শতাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং বহু প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনের কাছে হিংসা রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জয়ের আনন্দে কোনও রকম হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াতে নিষেধ করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন