সর্বশেষ

সারাদেশ

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ কুয়াকাটা, মিনি সুইজারল্যান্ড

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৮:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দক্ষিণের অপরূপ সমুদ্রসৈকতখ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন আর শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার স্থানেই সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্পট যুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

এর মধ্যে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত একটি মনোরম স্থান এবং কাছেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’—সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ। ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাস মিলিয়ে এখানে সৃষ্টি হয়েছে এক নৈস্বর্গিক আবহ।

এখানে এসে পর্যটকরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে, ছবি তুলতে, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করতে পারছেন। অনেকেই আবার তাঁবু টাঙিয়ে রাত যাপন করেন। এই স্থানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো—একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল সুযোগ।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি মৌরি ও বাপ্পা বলেন, “আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু এক স্থান থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দুটোই দেখা যায়—এমন অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।”

অন্যদিকে পর্যটক রাব্বানী জানান, “মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা ও নির্মল বাতাস আলাদা এক প্রশান্তি দেয়।”

স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, প্রথমদিকে স্থানীয় কয়েকজন এই জায়গাটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করেন। তার ভিডিওতে কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য উঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে দেশজুড়ে জায়গাটি পরিচিতি পায়।

মি. লাক্সছু বলেন, “প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেখান থেকেই নামটি ব্যবহার করি।”

কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। আশপাশের সবুজ বনভূমি ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। কুয়াকাটার মাস্টার প্ল্যানে এই দুই স্পটকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’র সভাপতি এবং মহিপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই এলাকাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা সম্ভব। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্থানীয় তরুণদের গাইড, নৌ-ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটনভিত্তিক নানা কাজে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন পর্যটকের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনায় দূষণ বাড়ছে এই শান্ত পরিবেশে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকাকে ঘিরে সম্ভাব্য পর্যটন প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।”

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন