আধাপাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আশুলিয়ার কৃষকরা, খাল পুনঃখননের দাবি
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ক্ষেতজুড়ে এখন আধাপাকা ধানে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ধান পাকতে আরও ৫–৭ দিন সময় লাগবে। কিছু কিছু জমির ধান ইতোমধ্যেই পেকে গেছে, ফলে সীমিত পরিসরে ধান কাটাও শুরু হয়েছে।
তবে ভালো ফলন হলেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। কারণ ফসলি জমির মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একটি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় টানা বৃষ্টি ও বর্ষার জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি গ্রামে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে এসব ধানী জমি জলাধারে পরিণত হয়। বর্ষা শেষে পানি নেমে গেলে তারা এসব জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। জমির মাঝামাঝি দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে, যা নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী এলাকা থেকে ধামসোনা বাজার হয়ে বংশী নদীতে গিয়ে মিশেছে। স্থানীয়ভাবে এটি বংশী নদীর সংযোগ খাল নামে পরিচিত।
কৃষকদের অভিযোগ, বংশী নদীর এই সংযোগ খাল দিয়ে সারা বছর কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি প্রবাহিত হয়। দীর্ঘদিন খালটি খনন না হওয়ায় এর গভীরতা কমে গেছে। ফলে টানা বৃষ্টিতে সহজেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং বর্জ্য মিশ্রিত পানি ধানী জমিতে প্রবেশ করে আধাপাকা ধান ডুবে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
শুধু তাই নয়, বর্ষার সময় জোয়ারের পানি খাল দিয়ে প্রবেশ করলেও খালের গভীরতা কম থাকায় তা ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই কৃষকদের অনেকেই ধান কাটতে বাধ্য হন। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ২০–২৫ বছর আগে এই সংযোগ খালের পানি ব্যবহার করেই কৃষকরা বোরো মৌসুমে সেচ দিতেন। কিন্তু সময়ের সাথে খালটি এখন কৃষকদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, খাল দিয়ে সারাবছর শিল্পকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি প্রবাহিত হওয়ায় তা সেচের উপযোগী নেই। পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ধানী জমি পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক জামাল মিয়া বলেন, খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বোরো ধান যখন আধাপাকা থাকে, তখন টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান তলিয়ে যায়। একইভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করলেও জমি ডুবে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক আগেভাগেই ধান কেটে ফেলেন, এতে তারা আর কাঙ্ক্ষিত ফলন পান না এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
স্থানীয় যুবক সাইদুর রহমান জানান, তার বাবা আগে ধান চাষ করলেও এখন পানিতে ধান ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি দ্রুত বংশী নদীর সংযোগ খাল পুনঃখননের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বংশী নদীর সংযোগ খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি খাল খনন কর্মসূচির আওতায় সাভারের ৪০টি খালের তালিকা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সম্ভব না হলেও দ্বিতীয় ধাপে এই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষকরা আবারও আগের মতো খালের পানি ব্যবহার করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আশুলিয়ার কলতাসূতি এলাকার বংশী নদীর সংযোগ খালের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার বিঘা কৃষিজমিতে স্থানীয় কৃষকরা বোরো আবাদ করেন। খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে আবারও হাসি ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে