কৃষকই দেশের মূল শক্তি, যুক্তি ও প্রজ্ঞায় গড়তে হবে ভবিষ্যৎ: কৃষিমন্ত্রী
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের কৃষকরাই বাংলাদেশের মূল শক্তি।
কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
শনিবার (২ মে) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিনি শুধু কৃষকের সন্তানই নন, নিজেও একজন কৃষক। একসময় মানুষ নিজেদের কৃষকের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করলেও এখন সেই ধারা বদলে গেছে। বর্তমানে মানুষ গর্বের সঙ্গে নিজেকে কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, যা দেশের অগ্রগতিরই প্রতিফলন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ একদিন অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিশ্ব মানচিত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারে, সেই প্রকৃত অর্থে বিতর্ক করতে সক্ষম। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে যুক্তি ও বুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাই সুস্থ বিতর্ক চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
অতীতের শাসনব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একসময় পৃথিবীতে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল, যেখানে প্রজাদের ওপর রাজাদের ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত—তা খাজনা, ফসল কিংবা অন্যায় দাবি যাই হোক না কেন। তখন সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার সুযোগ ছিল না। যদিও বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন শাসনব্যবস্থা রয়েছে, তবুও ক্ষমতাধর দেশগুলোর উদ্দেশ্য সবসময় স্পষ্ট নয়। তারা কখনো সম্পদ, কখনো প্রভাব, এমনকি একটি দেশের সার্বভৌমত্বকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ বাস্তবতায় আমাদের প্রধান শক্তি হতে হবে যুক্তি, প্রজ্ঞা ও কৌশল। শক্তির লড়াইয়ের বদলে জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে গেছেন, এখন সেটিকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
কৃষকদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনেক সময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন পণ্যের চাহিদা কত, তা সহজেই জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। ফলে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তায় আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল মজিদ এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, ‘কুমিল্লার কাগজ’-এর সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়সহ অন্যান্যরা।
“সত্যকে চিনে নাও যুক্তির নিরিখে”—এই প্রতিপাদ্যে কলেজ বিতর্ক পরিষদ (ভিসিডিএস) প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দল এবং সেরা বক্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
১১৬ বার পড়া হয়েছে