সিলেটের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ৯:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে নগরভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে সিলেটে এসে বলেছিলাম—সিলেট থেকে লন্ডনে যেতে সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা, অথচ সড়কপথে ঢাকা যেতে লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। এই বাস্তবতা বদলাতে আমরা কাজ করছি।”
তিনি জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ১১টি স্থানে জটিলতা ছিল, যার কারণে কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। ইতোমধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু রাস্তা বড় করলে যানবাহন বাড়বে, ট্রাফিক জটও বাড়বে। তাই আমরা ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”
স্বাস্থ্য খাতে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবেন।
বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্রুত এসব শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটের আইটি পার্ক দ্রুত সচল করা হবে এবং ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করা হবে।
নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ার দৃশ্য আমি নিজেই দেখেছি। এজন্য খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।”
এর আগে চাঁদনীঘাট এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” চালু করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধানসচিব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।
১১৭ বার পড়া হয়েছে