নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১২:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদী পৌর শহরের সাটিরপাড়া এলাকায় বোনের উত্ত্যক্তকারীর সঙ্গে আপস করার জেরে বড় ভাই আল আমিনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাই হাসানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২ মে) সকালে সাটিরপাড়া এলাকার আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও উত্ত্যক্তকারী নাঈমকে আটক করেছে।
নিহত আল আমিন ও অভিযুক্ত হাসান নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলী বাজার এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তারা ৫ ভাই ও ২ বোন। জীবিকার তাগিদে নরসিংদী পৌর শহরের চৌয়ালা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা ইজিবাইক (মিশুক) চালাতেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিরোধ নিহতের স্বজনরা জানান, চৌয়ালা এলাকার হাবিবের ছেলে নাঈম দীর্ঘদিন ধরে তাদের বোন দুই সন্তানের জননী তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তাসলিমা তাতে রাজি না হওয়ায় নাঈম তাদের ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে। নিহতের বোন তাসলিমা জানান, কথা না বলায় নাঈম তার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত এবং কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলাও চালায়। নাঈমের ভয়ে তারা নরসিংদী শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন।
হত্যার হুমকি ও নির্মম পরিণতি গত তিন দিন আগে বড় ভাই আল আমিন শহরে ফিরে নাঈমের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন এবং পুনরায় চৌয়ালার ভাড়া বাসায় ওঠেন। কিন্তু ছোট ভাই হাসান উত্ত্যক্তকারীর সঙ্গে এই আপস কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, আপস করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে হাসান ফোনে আল আমিনকে হুমকি দিয়ে বলেন, "তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না, তাহলে তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তবে তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব।"
শনিবার সকালে আল আমিন বাজার করার উদ্দেশ্যে বের হন। সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে ছোট ভাই হাসান কাঁচি দিয়ে তার পেটে একাধিক আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
আরএমও, সদর হাসপাতালের ডা. ফরিদা গুলশানারা কবীর জানান, "সকালে আল আমিনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।"
সদর মডেল থানার ওসি এ. আর. এম. আল-মামুন জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, "হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান এবং নাঈমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।" ওসি আরও জানান, আটক নাঈমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই ১৩টি মামলা রয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে