টানা বৃষ্টিতে রংপুরের ৩৩ মহল্লা প্লাবিত, পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতে বিভাগীয় শহর রংপুরের সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩টি পাড়া-মহল্লা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়কসহ ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নগরবাসী চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার এবং গত তিন দিনে মোট ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে নগরীর মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখাঁ পশ্চিম, বাবুখাঁ উত্তর, লালবাগ, গণেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠানপাড়া সহ ৩৩টি মহল্লা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে মাস্টারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারতলা মোড় থেকে পুরো সড়ক ২ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত মানুষ পানিতে ভিজে চলাচল করছে। প্রাইভেট কার, ট্রাক ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন গর্তে ভরা ডুবে থাকা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এমনকি রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে।
সড়কের পাশের বাড়িঘরগুলোতেও পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সড়কের পানি নামছে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আরও দুই দিন বৃষ্টি হলে পুরো এলাকা তলিয়ে যাবে।
মাস্টারপাড়ার পাশের বাবুখাঁ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। মুদির দোকানদার আরজু মিয়া জানান, তার দোকানে পানি ঢুকে হাজার হাজার টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আশপাশের অন্তত ১০টি মহল্লা প্লাবিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শ্যামাসুন্দরী খালে পানি প্রবাহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যা হতো না এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হতো না।
কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদা হাফিজও একই অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজান নবী ডন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা এবং পানি অপসারণে কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগামী ৫ মে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
নগরবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা না হলে আরও এলাকা প্লাবিত হবে এবং পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে