জনসভায় ‘দুলাভাই’ স্লোগান, রসিকতায় পরিস্থিতি সামাল প্রধানমন্ত্রীর
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পুনঃখনন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় এক ভিন্নধর্মী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনতা। তিনি বক্তব্য শুরু করতে মাইক্রোফোন হাতে নিলেও স্লোগান থামেনি; বরং সময়ের সঙ্গে আরও জোরালো হতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী হালকা রসিকতার আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, “দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে দুলাভাই যাবে গিয়া, যাই আমি—যাবো?” তার এই মন্তব্যে মঞ্চে উপস্থিত অতিথি ও জনতা হাসিতে ফেটে পড়েন এবং প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং পরে নদীতীরে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আবার বলেন, “কথা বলতে চুপ করতে হবে। আমি কথা বলি—শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শুনতে হবে কথা।” উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি সিলেটে হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে ‘দুলাভাই’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। এদিন তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়েই সিলেট সফরে অংশ নেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাসিয়া খাল খনন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি এবং দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, শুধু খাল খনন নয়—খালের দুই তীরে ফলদ গাছ রোপণ করা হবে, যাতে স্থানীয় জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব। দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে সব খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এই দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক। জনগণ এমন একটি সরকার নির্বাচিত করেছে, যে সরকার তাদের কাছে জবাবদিহি করবে।”
১২১ বার পড়া হয়েছে