টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের ডুবছে পাঁকা বোরো ধান, চরম সংকটে কৃষক
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাঁকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
এ অঞ্চলের একমাত্র ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
আজও থামেনি বৃষ্টি। টানা বর্ষণে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির কারণে বাড়তি মজুরিতেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্ষেতে থাকা পাঁকা ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেসব ধান কেটে মাড়াই করে শুকানোর জন্য রাখা হয়েছিল, সেগুলোও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও চার দিন আবহাওয়া বৈরী থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গেল সপ্তাহেও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাওরে পাকা ধানের সোনালি আভা ছিল। বর্তমানে পুরো হাওরজুড়ে পানি থৈ থৈ করছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে খোয়াই নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে জেলার ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, বাজিতপুর ও সদর উপজেলার হাওর অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও।
টানা বৃষ্টির আগে উজানের ঢল শুরু হলে কিছু জলাবদ্ধ জমি থেকে ধান কাটার চেষ্টা করেন কৃষকেরা। তবে এতে তাদের দ্বিগুণ খরচ গুনতে হয়েছে। অনেকেই ধান ঘরে তুললেও উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। এখন অবশিষ্ট ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
অষ্টগ্রামের আবদুল্লাহপুর এলাকার কৃষক আবদুল খালেক বলেন, “২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। ধান পেকে গিয়েছিল, আর ৮–১০ দিন পর কাটতাম। এখন পুরো ফসল পানির নিচে—সব শেষ।”
কলিমপুর হাওরের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, “মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান করেছি। এখন চোখের সামনে পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়ছে। পরিবার নিয়ে সারা বছর কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। মহাজনের টাকা দেবো কীভাবে?”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, জেলার হাওর অধ্যুষিত আটটি উপজেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাঁকা ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও জমির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। সব তথ্য একত্র করে ঢাকায় পাঠানো হবে এবং কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চলতি বছর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকেরা।
১১৬ বার পড়া হয়েছে