সর্বশেষ

সারাদেশ

গোয়াইনঘাট-সালুটিকর নৌ-পথ ইজারা বিরোধে নতুন মোড়, শুনানি স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাট ও সালুটিকর অঞ্চলের নৌ-পথের ইজারা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং মেসার্স এম.এইচ এন্টারপ্রাইজের মধ্যে চলমান আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আদালতে বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ উঠেছে, একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্দেশের পরই বিবাদী পক্ষ সমঝোতার পথে হাঁটে, যার ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সিলেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট শামীম সিদ্দিকী জানান, মামলাটিতে বাদী পক্ষ কৌশলে সরকারকে বিবাদী না করে শুধু বিআইডব্লিউটিএ-কে বিবাদী করেছে। এতে সরকারের স্বার্থ সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু মামলায় বড় অঙ্কের রাজস্ব জড়িত, তাই অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের মনোনীত আইনজীবী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত দিনে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

আদালত পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, শুনানির প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। ফলে বাদী মেসার্স এম.এইচ এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে বিবাদীপক্ষের পরোক্ষ সমঝোতার কারণে পূর্বের স্থগিতাদেশ বহাল থাকার পথ সুগম হয়েছে। এতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের নতুন ইজারা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে সরকারের কয়েক কোটি টাকার টোল ও রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রীর ফোনের বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান ইজারাদারকে সুবিধা দিতেই বিআইডব্লিউটিএ সময়ক্ষেপণ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, শুরুতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পরে ‘উপর মহলের’ নির্দেশে তারা আবেদন প্রত্যাহার বা শুনানি না করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে বর্তমান ইজারাদার আরও কিছু সময় টোল আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

রোববার শুনানি না হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এতে গোয়াইনঘাট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বালু ও পাথর মহাল এবং নৌ-ঘাটের ইজারা কার্যক্রমও ঝুলে গেছে। একদিকে বাদী পক্ষের ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, অন্যদিকে সমঝোতার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সিলেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

১৯৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন