তেলের অবৈধ মজুদ ও চোরাচালানরোধে বিজিবির অভিযান জোরদার
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে যশোর রিজিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের অধীনে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি যানবাহনে ২৪ ঘণ্টায় ১৩টি বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত চেকিং এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে তেল চোরাচালান রোধে নির্দিষ্ট রুট চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি ৯৮৫টি চেকপোস্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬০টি টহল পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৪০টি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যৌথ টাস্কফোর্সের ৪৩টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ডিলারকে ৬২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধেও বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
চলতি ২০২৬ সালে যশোর রিজিয়ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৩ জন আসামিসহ প্রায় ৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২.৬১৯৬৪ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম হিরে, ১০.৫ কেজি রূপা, ৪২টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি।
এছাড়া জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৪৭০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৯ হাজার ৭১ পিস ইয়াবা, ২০ গ্রাম হেরোইন এবং ৪ হাজার ৮৯৬ বোতল ফেনসিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালকের ভিশন অনুযায়ী, “বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক”। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১২৫ বার পড়া হয়েছে