ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা: নরসিংদীর ২০ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ২০ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে। কেন্দ্রটিতে মোট তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও, একটি কক্ষে থাকা ২০ জন পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি তারা শুরুতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের ধমক দিয়ে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় এবং বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। পাশাপাশি তারা শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন।
ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, এতে ফলাফলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে এবং অনেকে ফেল করার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম বলেন, তিনি টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন এবং জিপিএ–৫ প্রত্যাশা করছিলেন। কিন্তু এই ঘটনায় তার ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
একই অভিযোগ করেন নাদিরা সুলতানা, উম্মে হানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সুম্রাট ভূঁইয়া ও সিয়াম হোসেনসহ অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ. কে. এম. শাহজাহান বলেন, এটি কেন্দ্র সচিব, হল সুপার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম অবহেলার ফল। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র না দিয়ে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ওবায়দুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন সবার একটাই প্রশ্ন—এই অনিয়মের সঠিক বিচার হবে কি না, নাকি এর দায় বহন করতে হবে নিরীহ শিক্ষার্থীদেরই।
১২১ বার পড়া হয়েছে