সর্বশেষ

সারাদেশ

আলীকদমে হামের উপসর্গে শিশুরা আক্রান্ত, ১ শিশুর মৃত্যু

মো. আরিফ, বান্দরবান
মো. আরিফ, বান্দরবান

বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়েছে।

জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে গত দুই দিনে অন্তত ১৫ জন শিশুকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় আরও বহু শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

হামের লক্ষণ নিয়ে বৃহস্পতিবার এবং গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুরুকপাতা ইউনিয়নের একটি বেসরকারি অনাথ আশ্রমে থাকা আট বছর বয়সী শিশু চাংমুম ম্রো মারা যায়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অনাথ আশ্রমটির পরিচালক উথোয়াইংগ্যো মারমা জানান, মঙ্গলবার রাতে জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত চাংমুমের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহে আশ্রমটির প্রায় ৪০ জন শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি ও বড় ব্যাটিসহ বিভিন্ন পাড়ায় অনেক শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, চলতি মাসের ১১ এপ্রিল একই ইউনিয়নে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামে হয়নি।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. হাসান জানান, গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ১৫ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ১৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, চাংমুম ম্রোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে, তবে শিশুটির মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে। এর আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেবেন এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার আওতায় আনবেন।

জানা গেছে, কুরুকপাতা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত। প্রায় ১৩৫টি পাড়ায় বসবাসরত প্রায় ১২ হাজার মানুষের বেশিরভাগই দুর্গম অঞ্চলে থাকেন। সড়ক যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে অনেক এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, দুর্গমতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও হামের মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেশি। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
 

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন