সর্বশেষ

সারাদেশ

পিরোজপুরে হাত ভাঙা পরীক্ষার্থীর শ্রুতিলেখকের সহায়তায় অংশগ্রহন

আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর
আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর

বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচার হামলায় ডান হাত ভেঙে গেলেও শেষ পর্যন্ত শ্রুতিলেখকের সহায়তায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এসএসসি পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে শিক্ষার্থী বিথী আক্তার।

আহত বিথী আক্তার (১৫) উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারীকাঠি গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে। সে তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন এইমাত্র'কে জানান, বিথী তাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী। তার ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিথীর বাবা বাদল হাওলাদারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে রান্নার ধোঁয়া প্রতিবেশীর ঘরে গেলে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম ঘরের আসবাবপত্র ও হাঁড়িপাতিল ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিকেলে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বিথী আক্তারের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় হাতুড়ি ব্যবহার করা হয়, এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে বিথীর বাবা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, মামলার পর এজাহারভুক্ত আসামি নবী হোসেন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঘটনার পর মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করে বিশেষ ব্যবস্থার অনুরোধ জানান। পরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিতে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে বিথীর শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সহায়তায় অংশ নেয় বিথী আক্তার।

পরীক্ষা শেষে শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও পরীক্ষা দিতে পারায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিথী ও তার পরিবার। তারা জানায়, ব্যান্ডেজ নিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে এবং পরে চিকিৎসার জন্য আবার হাসপাতালে ফিরে যেতে হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও পরীক্ষাসংক্রান্ত সব বিষয়ে প্রশাসন তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে, যাতে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং পিছিয়ে না পড়ে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন