ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গ্রামীণ কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান—এ লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের দেওয়া যেকোনো বক্তব্য গ্রহণ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমান সরকার শপথের মর্যাদা ও সংসদের স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল।
তিনি জানান, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট, ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয় সেজন্য ফসল কাটার মৌসুমে সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি থাকছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি আমদানিকৃত ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। তবে এগুলো শিগগিরই উৎপাদনে ফিরলে আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে বিদ্যুৎ সংকটজনিত সাময়িক ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
১২৪ বার পড়া হয়েছে