পারস্য উপসাগরের সাবমেরিন কেবল ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ইরানের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরান-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। এতে ওই অঞ্চলের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য কৌশলগত চাপের ক্ষেত্র হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীকে শুধু তেল ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে নয়, বরং সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের একটি প্রধান করিডোর হিসেবেও তুলে ধরা হয়। এই কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো ইন্টারনেট অবকাঠামোর জন্য সমুদ্রনির্ভর সংযোগের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল, যা তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাসনিমের এই উপস্থাপনা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত তথ্য নয়; বরং এটি অঞ্চলটির কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারকে সম্ভাব্য সংঘাতের কৌশলগত উপাদান হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত ও বাহরাইনে থাকা ক্লাউড এবং ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর প্রতি ইঙ্গিত করে এর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
এমন এক সময় এই বার্তা প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত কিছু ক্লাউড স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকদের ধারণা—পারস্য উপসাগর অঞ্চলে এখন শুধু তেল বা নৌপথ নয়, বরং সাবমেরিন কেবল ও ডেটা সেন্টারও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে