সর্বশেষ

জাতীয়

স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনা, ‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে ১০ সেবা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন।

আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমি হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতেই ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্যসহ ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

সরকারপ্রধান আরও জানান, কৃষি উন্নয়নে আরও বেশ কিছু সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষিযান্ত্রিকীকরণে ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চল ও সিলেট অঞ্চলের অনাবাদি জমি কাজে লাগানোর জন্য বিশেষ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে ধাননির্ভর কৃষি থেকে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ ও ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা’ খাতে অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণে ব্যয় করা হয়েছে, যা ২৫ লাখের বেশি কৃষককে উপকৃত করেছে।

সরকার আরও জানায়, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম, মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কাজ করছে। জলবায়ু সহনশীল ও রোগ প্রতিরোধী নতুন জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় ‘AWD’ পদ্ধতি ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক কৃষি সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন