কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: আহত ৭, দোকান ভাঙচুর
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর কলেজ মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বৃদ্ধাকে অপমান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলে জামায়াতের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। এর পরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে অভিযোগ ওঠে, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াতের নিরস্ত্র কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোবারক হোসেন (৩৩), পিতা নূর ইসলাম; মো. জাকির হোসেন (২২), পিতা ইদ্রিস আলী; আব্দুল মালেক (৫৫), পিতা মৃত আব্দুল জলিল; এবং আব্দুল জব্বার (৫২), পিতা মৃত রহমত আলী বেপারী। এর মধ্যে আব্দুল মালেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুরের লাইফ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশের মাথায় গুরুতর আঘাত, কারো হাত ভাঙা এবং কারো পায়ের হাড় ফ্র্যাকচারের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির দুই কর্মী—সিজান আহমেদ (২০) ও আলমগীর হোসেন (২২)—ও আহত হয়ে ফুলবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মোবারক হোসেনের আতর ও টুপির দোকান, সাইফুল ইসলামের চায়ের দোকান এবং মোস্তাফিজুর রহমানের ফিড ও ভেটেরিনারি ওষুধের দোকান রয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকার বেশি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির এক কর্মী জাহাঙ্গীর (ডাকনাম ‘জাহাঙ্গীর পাগলা’) এর উগ্র আচরণের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া বিএনপির ইউনিয়ন সেক্রেটারির সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
১৬৯ বার পড়া হয়েছে