নগরকান্দায় কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধ: স্থানীয়দের অভিযোগে উত্তেজনা
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল গ্রামে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝিকান্দা ও পাঁচকাইচাইল গ্রামের মানুষ প্রায় ২৮ বছর ধরে যে কবরস্থানটি ব্যবহার করে আসছেন, সেই জমির মালিকানা সম্প্রতি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন সরোয়ার মাতুব্বর। এতে এলাকায় চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কবরস্থানে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এটি দুই গ্রামের মানুষের জন্য নির্ধারিত একটি সাধারণ দাফনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে হঠাৎ জমির মালিকানা পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু মালিকানা দাবি করেই থেমে থাকেননি সরোয়ার মাতুব্বর। কবরস্থানের একটি অংশে তিনি বাথরুম নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, “কবরস্থান মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। এমন জায়গা নিয়ে দখলদারি ও বিরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”
স্থানীয়রা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সরোয়ার মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে অনেক আগেই মৌখিকভাবে জমিটি ক্রয় করেছিলেন এবং প্রায় এক মাস আগে রেজিস্ট্রি করে নিজের নামে দলিল সম্পন্ন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন গ্রামবাসী তাকে জমি ফেরত দিতে বলছে।
তবে দীর্ঘদিন কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত জমি হঠাৎ কেন নিজের নামে রেজিস্ট্রি করলেন—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান জানান, বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কবরস্থানের জমি উদ্ধারসহ গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, কবরস্থানের জমি নিয়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে জন্য সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে