বরিশালে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের স্বীকৃতি ও নীতিমালার দাবিতে সমাবেশ
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বৈধতা, নিবন্ধন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর ৯ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
বরিশাল জেলা শাখার সংগঠক দুলাল মল্লিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ক্রীড়া সম্পাদক বেল্লাল গাজী, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম, মহসীন মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল করছে, যা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমশক্তির সঙ্গে যুক্ত। এই খাতে কর্মরত শ্রমিকদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩ কোটি মানুষ। তবে এখনো এই খাতকে কোনো সুসংহত নীতিমালার আওতায় আনা হয়নি।
তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর অধীনে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ, রুট পারমিট প্রদান এবং সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড চালু করা জরুরি।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খাতের শ্রমজীবী মানুষদের জিম্মি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় সিলেট ও চট্টগ্রামে বামপন্থী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনাও তুলে ধরেন তারা। ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একাধিক খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, ২০২৫ সালে প্রণীত বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের স্টিকার দিয়ে এ যানবাহন নিরাপদ করা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স, যান্ত্রিক মান যাচাই এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বে তেল-গ্যাসের মজুদ সীমিত হয়ে আসছে এবং আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এসব জ্বালানি ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনকে নীতিমালার আওতায় আনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।
১৯১ বার পড়া হয়েছে