নাজিরপুরে ডাকাতির চেষ্টায় সংঘর্ষ: এক ডাকাত নিহত, আহত দুই
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় গভীর রাতে ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে ডাকাত দলের সঙ্গে বাড়ির মালিকের সংঘর্ষে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন এবং বাড়ির মালিক ও তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ২টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে ৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই বাড়ির মালিক উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১)-এর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ডাকাতদের সঙ্গে বাড়ির লোকজনের মধ্যে কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ডাকাত দলের সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ডাকাত ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯)-কে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।
নিহত ডাকাতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার মজিবর রাড়ীর ছেলে দুলাল। তবে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ডাকাতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজ্জ্বল বাহাদুর একজন বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। ধারণা করা হচ্ছে, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে ডাকাতরা তার বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। তবে পরিবারের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই ওই ডাকাত মারা যান। এছাড়া আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে