শেরপুরের কামারেরচরে সেতু ও সড়কের দাবিতে তিন কিলোমিটার মানববন্ধন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের উন্নয়নবঞ্চিত চরাঞ্চলে সেতু ও টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ উপলক্ষে রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ৬ নম্বর চর, পয়স্তীরচর ও গোয়ালপাড়া এলাকার উদ্যোগে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, শেরপুর শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৬ নম্বর চর, গোয়ালপাড়া, পয়স্তীরচরসহ চারটি গ্রাম স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এই এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি বছরের ছয় মাস পানির নিচে থাকে। দুর্গম এই চরাঞ্চলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দশানী ও ব্রহ্মপুত্র নদ, যা গ্রামগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরত্ব হলেও এসব গ্রামে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অন্তত তিনটি সেতুর প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত একটি সেতুও নির্মিত হয়নি। ফলে দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো সড়ক, তখন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে ভ্যান বা ঘোড়ার গাড়িই ভরসা, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার আশ্বাস মিললেও এখনো টেকসই সড়ক ও সেতু নির্মাণ হয়নি। পাশাপাশি বাঁধের অভাবে প্রতিবছর বন্যায় শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। সবজির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই চরাঞ্চলের কৃষকরা যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হয়।
এ অবস্থায় সড়ক ও সেতুর দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলনের ডাক দেন। রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে দশানী নদীর তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে এবং শফিউল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তিনি স্মারকলিপি গ্রহণ করে সেতু ও সড়কের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।
এদিকে, এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের জরিপ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অবহেলিত এই চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত অন্তত একটি সেতু এবং বন্যা উপযোগী টেকসই সড়ক নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসীর।
১২৭ বার পড়া হয়েছে