সালথায় আসামির স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে এএসআইকে মারধর
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. ইমরান হাসান (৪০)। তিনি সালথা থানায় কর্মরত এবং স্থানীয় বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় মাদক মামলার এক আসামি মেহেদী হাসানের স্ত্রী ও পুলিশের এএসআই ইমরান হাসানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার রাতে ইমরান হাসান আসামির বাড়িতে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের। ভিডিওতে দেখা যায়, আহত অবস্থায় ইমরান হাসানের মাথায় কাপড় বাঁধা, মুখে রক্তের দাগ এবং তিনি পুলিশের পোশাক পরিহিত নন। সেখানে তাকে মারধরের সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়ার দাবি করেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতির সুযোগে এএসআই ইমরান হাসান তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি দাবি করেন, তাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
ঘটনার পর সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত এএসআই ইমরান হাসানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাতে সাদা পোশাকে একা কেন তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
১২০ বার পড়া হয়েছে