বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান, কোটালীপাড়ায় চাঞ্চল্য
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী (২৫), যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে তিনি কোটালীপাড়া পৌরসভার ডহরপাড়া গ্রামে প্রেমিক সজল বালার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সজল বালা ওই গ্রামের শীতল বালার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। অপরদিকে ওই তরুণী পেশায় একজন নার্স।
তরুণীর অভিযোগ, তার বাবা ও সজলের মায়ের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং একটি ক্লিনিকে উভয় পরিবারের যৌথ বিনিয়োগ আছে। প্রায় ছয় মাস আগে ওই ক্লিনিকে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সজলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তিনি দাবি করেন, সম্পর্কের একপর্যায়ে সজল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে সজলের পরিবার আপত্তি জানায় এবং তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।
তরুণী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে পাঠালেও অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১লা বৈশাখে সজলের সঙ্গে তার দেখা হয়, এরপর থেকে তিনি যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী।
শনিবার সকালে সজলের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, সজল বাড়িতে নেই এবং তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিয়ের দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি।
এ বিষয়ে সজলের মা অঞ্জনা বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হবে।
অভিযুক্ত সজলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আগে একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তবে অভিযুক্ত পক্ষ থানায় উপস্থিত না হওয়ায় অভিযোগকারীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সফর আলী বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান বা অনশন সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে