শাহজাদপুর থানায় ছাত্রদলের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা, মোবাইল ভাঙচুর-হামলা
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় এক পুলিশ সদস্য ভিডিও ধারণ করলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেল কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার (১৮ এপ্রিল) শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ থানায় যান। এ সময় কর্তব্যরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না। জড়িত না থাকলে তাকে চলে যেতে বলা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাব্বির আহমেদ বলেন, “আমি কেন বের হয়ে যাব? আপনারা ৫ তারিখের আগে যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই আচরণ করছেন। আপনারা আওয়ামী লীগের পুলিশ।” এরপর তিনি থানার বাইরে চলে যান।
পরে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা থানায় প্রবেশ করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় এক পুলিশ সদস্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।
এ বিষয়ে সাব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিব বলেন, মোটরসাইকেল সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা টাকা দাবি করেছিলেন, কিন্তু সাব্বির তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিচয় দেওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়, তবে মারামারি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ওসি’র কাছে বিচার চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোবাইল ভাঙচুরের বিষয়ে আদিব বলেন, “ভিডিও ধারণ করছিল, তাই কেউ ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেছে। প্রকৃতপক্ষে পুলিশই অন্যায় করেছে। বিনা কারণে সাব্বিরকে চড় মারা হয়েছে। এসআই নতুন হওয়ায় হয়তো তাকে চিনতে পারেননি।”
এদিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মামুন জুয়েল বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই থানায় গেছে। এটি ব্যক্তিগত বিষয়, সংগঠন এর দায় নেবে না। তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “যার মোটরসাইকেল, তার কোনো খোঁজ নেই। ওই ছেলেটি দলবল নিয়ে এসে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা বলতে থাকে, পুলিশ আগেও যেমন ছিল এখনও তেমনই আছে। এক কনস্টেবল ছবি তুলছিল, তখন তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে