কুয়াকাটায় জমি নিয়ে বিরোধ,আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক সরকারি কর্মকর্তা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. জালাল উদ্দিন আহম্মেদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি বরগুনার তালতলী উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার দাবি, এসএ ১৩০০ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এবং বিএস ৪২৪৯ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন ৫০৫৯, ৫০৬২ ও ৫০৬৩ নম্বর দাগে মোট ২.২৮ একর জমি তিনি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্তসূত্রে বৈধভাবে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
উক্ত জমি নিয়ে দায়ের করা দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-৪৫৫/২১) বর্তমানে কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার শুনানি শেষে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীপক্ষ কোনো ধরনের গাছ কাটতে পারবে না, জমির কোনো ক্ষতি বা পরিবর্তন করতে পারবে না এবং নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
তবে অভিযোগ করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৩১ মার্চ গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জমিতে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মজিবর মোল্লা, জয়নাল শেখ, শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন। তারা নিয়মিত হুমকি-ধামকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে ১৬ মার্চ পুলিশ উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে। ওই নোটিশে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা।” তিনি অবিলম্বে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন জয়নাল শেখ বলেন, আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাদের দাবি, যে স্থানে তারা ঘর নির্মাণ করেছেন, সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
১২৬ বার পড়া হয়েছে