চট্টগ্রামে ২৫ এপ্রিল বসছে জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসর
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠ এবং এর আশপাশ এলাকায় আগামী ১২ বৈশাখ, ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর।
একইসঙ্গে বলীখেলাকে কেন্দ্র করে ১১ ও ১২ বৈশাখ, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল দু’দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসবে।
জব্বারের বলীখেলার প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় আরও আহ্বান জানানো হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য প্রয়াত আবদুল জব্বার সওদাগরকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করার বিষয়ে সরকার যেন পদক্ষেপ নেয়।
এছাড়া ঐতিহাসিক লালদীঘি চত্বরকে “আবদুল জব্বার চত্বর” হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ করায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আগামীতে জব্বারের বলীখেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এর ইতিহাস ও কার্যক্রম সংরক্ষণ এবং আবদুল জব্বারের নামে একটি বলী বা কুস্তি দল গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।
আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলী খেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার যুব সমাজকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা এবং তাদের মধ্যে ঐক্য ও দেশপ্রেম জাগ্রত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। কালক্রমে এটি আয়োজকের নামানুসারে “জব্বারের বলী খেলা” নামে পরিচিতি লাভ করে এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এই বলী খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ময়দান ও এর আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় বিশাল লোকজ মেলা বসে। সাধারণত বলী খেলার আগের দিন থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই বৈশাখী মেলা চলে। মেলায় মাটির তৈরি খেলনা, ঘর সাজানোর হস্তশিল্প, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি এবং বিভিন্ন গৃহস্থালির তৈজসপত্র পাওয়া যায়। এসব পণ্য কেনার জন্য চট্টগ্রামের মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন।
১১৩ বার পড়া হয়েছে