আ. লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুরকে মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তুমুল আলোচনা
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক।
একদিকে, আওয়ামী লীগ নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন এবং বিভিন্ন ছবি দিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। সুবর্ণা ঠাকুর আদৌ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন কি না, নাকি তিনি বিএনপির সদস্য হয়েছেন—এমন প্রশ্নও উঠেছে সবার মাঝে।
জানা গেছে, আজ সোমবার বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন নারীকে মনোনয়ন দেয়। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুরকেও বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সুবর্ণা মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, “আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?”
টিটো বদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, “অফিসিয়ালি কোনো জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীর কোনো ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনে যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।”
পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, আমাদের জেলায় অনেক ত্যাগী নেত্রী রয়েছেন। কিন্তু তাদের রেখে আওয়ামী লীগের পদে থাকা একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। আশা করি দল এটি বিবেচনা করবে।
জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন বলেন, দল যাকে ভালো মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে দেখেছেন। আমরা তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা সেটাই মেনে নেব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যাব না।
এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা স্বীকার করেন। তবে আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে