এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধি: জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে ন্যাপের অভিযোগ
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের বাজারে আবারও এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৯৪০ টাকা।
একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী এবং “বোঝার ওপর শাকের আঁটি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।
সোমবার (২০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা এই সিদ্ধান্তের ফলে জনজীবন এবং শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নেতারা বলেন, এলপিজি দেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। অক্টেন, ডিজেল, পেট্রোল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি এলপিজির দাম বাড়ায় জনগণের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠবে। তাদের মতে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী।
বিবৃতিতে তারা সীমিত আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা বলেন, সরকারের এই অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত দরিদ্র মানুষের ভোগান্তি ও দুঃখ-কষ্ট আরও বাড়াবে।
নেতৃদ্বয় আরও উল্লেখ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন ইতোমধ্যেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এলপিজির নতুন মূল্যবৃদ্ধি তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত সীমিত আয়ের মানুষের ওপর “বোঝার ওপর শাকের আঁটি” চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সরকারের উচিত ছিল দরিদ্র জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে