কুয়াকাটায় শুরু রাখাইনদের মাহা সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব, আনন্দে মুখর জনপদ
বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মাহা সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব শুরু হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন রাখাইন তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সাগরকন্যা কুয়াকাটার শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মহিলা মার্কেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন সাদেক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান, ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক জয়ন্ত, এসআই সজল সাহা, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির এবং কলাপাড়া প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক জসিম পারভেজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটার রাখাইন পাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই জলকেলিতে অংশ নিতে আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় জমায় মানুষ। বরগুনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যরা উৎসবে যোগ দেন।
জলকেলির মূল আকর্ষণ হিসেবে সাজানো নৌকায় পানি রেখে একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। নাচ-গান আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কিশোর-কিশোরীরা দলবেঁধে আনন্দের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশায় জীবন শুরু করার বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এটি পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
দর্শনার্থীরাও উৎসব উপভোগ করে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। অনেকের কাছেই এটি ছিল ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা, যেখানে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। প্রতিদিন জলকেলির পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া রাখাইন পরিবারের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলিও উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের এই সাংগ্রাই উৎসব স্থানীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
১২২ বার পড়া হয়েছে