সর্বশেষ

সারাদেশ

সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক, ১০ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ দিনে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল চার মাস বয়সী এক শিশু, ৮ এপ্রিল রাতে পাঁচ মাস বয়সী আরিশা এবং ১০ এপ্রিল সাত মাস বয়সী দিব্য নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয় একই হাসপাতালে। এরপর আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিনই হামের উপসর্গ—জ্বর, সর্দি-কাশি ও লালচে ফুসকুড়ি—নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১২৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালেই সর্বোচ্চ ৬৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর সব ১০টি শয্যাই বর্তমানে পূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ৬ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত ও ভর্তি বাড়ছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) বাইরে রয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম–রুবেলা (MR) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি এলাকার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে।

চিকিৎসকেরা আরও জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মিজানুর রহমান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক শিশু নিউমোনিয়া বা হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিলতা নিয়ে আসায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বর্তমানে ৬৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্যদিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, সারাদেশের মতো সিলেটেও হামের সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আলাদা ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, শামসুদ্দীন হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়েও রোগী ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলেও রিপোর্ট পেতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। তবে চিকিৎসকেরা উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

১২৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন